তিনিই পাঠক
ভদ্রলোক পেশায় একজন রিকশা চালক। অপেক্ষাকৃত কম মুল্যে বই কিনতে পুরনো বইয়ের দোকানে তাকে তাকে বাধা বান্ডিল খুঁজে খুঁজে বের করলেন-সমরেশ,হেলাল হাফিজ,শরৎ ও আলাউদ্দিন আজ আজাদের লেখা বই। নিয়েছেন একটি রুশ অনুবাদ গ্রন্থ “মা”। কেজি দরের চেয়ে একটু বেশী দাম।বইয়ের কভার ছেঁড়া ফাঁটা হলেও ভেতরটা অক্ষত।
তিনি মনে করেন বইতো চীরযৌবনা।বই কি করে পুরনো হতে পারে।পুরনো তো সেই বই যেগুলো পড়া শেষ।
দোকানদারও ক্রেতাকে নিয়ে ভাবনার গভীরে যাননি। তিনিও সাবেক ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী।বইগুলোও ভাঙ্গারী দোকান থেকেই সংগৃহীত।
দোকানের সামনে দাঁড়ানো একজন একদৃষ্টে সব দেখছেন,তিনি এই বই ক্রেতা পাঠককে নিয়ে তন্ময় হয়ে ভাবছেন,পাঠকের রুচিবোধ দেখে হতবাক। বইযে নিজের জন্য কিনছেন সেটা তার বই বাছাই পদ্ধতিতেই বুঝা গেলো। বেশ কয়টি বই নিয়ে তিনি বেড়িয়ে আসলে জৈনক ভদ্রলোক সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করেন- ভাইজান ডিজিটাল মোবাইলের যুগে এত বই কারজন্য?
পাঠকের উত্তর-সারাদিন গাড়ি চালিয়ে মেসে একা থাকি,পরিবার গ্রামে,সময় কাটানোর এর চেয়ে ভাল কোন উপায় আমার জানা নেই স্যার।
ট্যাগস :