ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর বেলাবতে হযরত শাহ ইরানী মাজারের বাৎসরিক ৩দিন ব্যাপী ওরশ মোবারক শুরু

মোঃ শামীমুল হক শামীম

নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অন্যতম কেন্দ্র হলো হাবিশপুর হযরত শাহ ইরানী (র.)-এর মাজার। প্রতি বছর এই মাজারকে কেন্দ্র করে যে বাৎসরিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়, তা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

 ওরশ উপলক্ষে মাজারে গিলাফ চড়ানো, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আসকার এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। ভক্ত ও আশেকানরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে জিয়ারতের জন্য আসেন।

 ওরশকে কেন্দ্র করে মাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় কুটির শিল্প, আসবাবপত্র, খেলনা এবং বিভিন্ন লোকজ খাবারের পসরা বসে। বেলাব ও পার্শ্ববর্তী কটিয়াদী ও কুলিয়ারচর উপজেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই এলাকা।

 লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, হযরত শাহ ইরানী (র.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পারস্য (ইরান) থেকে এই অঞ্চলে এসেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই মাজারের পরিচিতি এবং তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাবের কারণে গ্রামটি ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়।

 বাৎসরিক ওরশ  ২ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে, ৩ ও ৪ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার পর্যন্ত ওরশ ও মেলা চলবে।

সাধারণত ওরশের সময় মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং অস্থায়ী খাবারের দোকানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মান যাচাইয়ে বেলাব উপজেলার সহকারী কমিনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজ সারতাজ জায়েদ  এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। হাউডোজ মিশিয়ে জিলাপী তৈরি করার দায়ে কয়েকটি দোকানের জিলাপী ফেলে দেওয়া হয়।  মেলায় আসা মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা ক্ষতিকর রঙ  বা ক্যামিকেল মেশানো হলে দন্ড ও অর্থ দন্ড দেওয়ার কথা বলা হয়। তাছাড়া নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বেলাব উপজেলা প্রশসানের সাথে ওরশ ও মেলা কমিটিও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
৪৪ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর বেলাবতে হযরত শাহ ইরানী মাজারের বাৎসরিক ৩দিন ব্যাপী ওরশ মোবারক শুরু

আপডেট সময় ০৭:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অন্যতম কেন্দ্র হলো হাবিশপুর হযরত শাহ ইরানী (র.)-এর মাজার। প্রতি বছর এই মাজারকে কেন্দ্র করে যে বাৎসরিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়, তা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

 ওরশ উপলক্ষে মাজারে গিলাফ চড়ানো, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আসকার এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। ভক্ত ও আশেকানরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে জিয়ারতের জন্য আসেন।

 ওরশকে কেন্দ্র করে মাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় কুটির শিল্প, আসবাবপত্র, খেলনা এবং বিভিন্ন লোকজ খাবারের পসরা বসে। বেলাব ও পার্শ্ববর্তী কটিয়াদী ও কুলিয়ারচর উপজেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই এলাকা।

 লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, হযরত শাহ ইরানী (র.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পারস্য (ইরান) থেকে এই অঞ্চলে এসেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই মাজারের পরিচিতি এবং তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাবের কারণে গ্রামটি ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়।

 বাৎসরিক ওরশ  ২ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে, ৩ ও ৪ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার পর্যন্ত ওরশ ও মেলা চলবে।

সাধারণত ওরশের সময় মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং অস্থায়ী খাবারের দোকানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মান যাচাইয়ে বেলাব উপজেলার সহকারী কমিনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজ সারতাজ জায়েদ  এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। হাউডোজ মিশিয়ে জিলাপী তৈরি করার দায়ে কয়েকটি দোকানের জিলাপী ফেলে দেওয়া হয়।  মেলায় আসা মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা ক্ষতিকর রঙ  বা ক্যামিকেল মেশানো হলে দন্ড ও অর্থ দন্ড দেওয়ার কথা বলা হয়। তাছাড়া নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বেলাব উপজেলা প্রশসানের সাথে ওরশ ও মেলা কমিটিও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।