ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিশাপ নাকি অবহেলা—নরসিংদীতে দুই দশক ধরে জলবন্দি এক জনপদ

স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে এক আদিম ও অমানবিক বাস্তবতার সাথে লড়ছে একটি জনপদ। নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড, কোনো পরিত্যক্ত বিল বা মরা খাল নয়। একটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। অথচ গত ২০ বছরের বেশী সময় ধরে নোংরা ও পচা পানির স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা।

নাগরিক সুবিধা যেখানে শূন্যের কোঠায়, সেখানে নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স, ভ্যাটসহ নানা সরকারি ফি। প্রশ্ন উঠছে—নাগরিক সেবা যদি না-ই মেলে, তবে কোন যুক্তিতে করের বোঝা বইবেন সাধারণ মানুষ? এমনটাই দাবি উঠেছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। এই জনপদের এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার নাম—স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা আর পয়ঃনিষ্কাশনের বেহাল দশায় এখানকার জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন এই মরণফাঁদ পাড়ি দিতে হচ্ছে ছোট শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবীদের। সবচেয়ে করুণ দশা অসুস্থ রোগী আর গর্ভবতী মায়েদের। রাস্তার ওপর বস্তা বিছিয়ে বা ইট ফেলে জীবন বাজি রেখে চলাচল—এটিই এখন এখানকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান—সবার দুয়ারে ঘুরেছেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই মিলেছে শুধু দীর্ঘমেয়াদী আশ্বাসের শুষ্ক সান্ত্বনা। নাগরিক সেবা না দিয়েই নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স, ভ্যাট এবং নানান সরকারি ফি। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোর এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাই নেই, সেখানে কোন যুক্তিতে কর দেবেন তারা?
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার এই ব্যবধান কি সংশ্লিস্টদের কেবলই উদাসীনতা! নাকি জনপ্রতিনিধিদের চরম অবহেলা? সংশ্লিস্টদের রহস্যজনক নীরবতায় মানচিত্রের এই অংশটি আজ প্রায় পরিত্যক্ত দ্বীপে পরিণত হয়েছে। জনমনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভের দাবানল।
নাগরিক সেবা পাওয়া মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, কোনো করুণা বা অনুদান নয়। একটি জনপদকে এভাবে দুই দশক ধরে পঁচা-মরা পানির ভাগাড়ে ফেলে রাখা দায়িত্বশীলদের কেবল ব্যর্থতাই নয়, বরং চরম অমানবিকতা। এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
উন্নয়ন যখন দোরগোড়ায়, তখন এই জনপদকে অবহেলার অন্ধকারে ফেলে রাখার দায় কার? এই এলাকার মানুষ কি স্বাভাবিক জীবনের দেখা পাবে? নাকি উন্নয়নের ফাইলের স্তূপে বন্দি থাকবে? আর কোনো আশ্বাস নয়, দীর্ঘস্থায়ী ড্রেনেজ সমাধান চান তারা। এমনই প্রশ্ন রেখে দীর্ঘ দিনের এই ‘নরক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহবান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

অভিশাপ নাকি অবহেলা—নরসিংদীতে দুই দশক ধরে জলবন্দি এক জনপদ

আপডেট সময় ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে এক আদিম ও অমানবিক বাস্তবতার সাথে লড়ছে একটি জনপদ। নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড, কোনো পরিত্যক্ত বিল বা মরা খাল নয়। একটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। অথচ গত ২০ বছরের বেশী সময় ধরে নোংরা ও পচা পানির স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা।

নাগরিক সুবিধা যেখানে শূন্যের কোঠায়, সেখানে নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স, ভ্যাটসহ নানা সরকারি ফি। প্রশ্ন উঠছে—নাগরিক সেবা যদি না-ই মেলে, তবে কোন যুক্তিতে করের বোঝা বইবেন সাধারণ মানুষ? এমনটাই দাবি উঠেছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। এই জনপদের এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার নাম—স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা আর পয়ঃনিষ্কাশনের বেহাল দশায় এখানকার জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন এই মরণফাঁদ পাড়ি দিতে হচ্ছে ছোট শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবীদের। সবচেয়ে করুণ দশা অসুস্থ রোগী আর গর্ভবতী মায়েদের। রাস্তার ওপর বস্তা বিছিয়ে বা ইট ফেলে জীবন বাজি রেখে চলাচল—এটিই এখন এখানকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান—সবার দুয়ারে ঘুরেছেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই মিলেছে শুধু দীর্ঘমেয়াদী আশ্বাসের শুষ্ক সান্ত্বনা। নাগরিক সেবা না দিয়েই নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স, ভ্যাট এবং নানান সরকারি ফি। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোর এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাই নেই, সেখানে কোন যুক্তিতে কর দেবেন তারা?
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার এই ব্যবধান কি সংশ্লিস্টদের কেবলই উদাসীনতা! নাকি জনপ্রতিনিধিদের চরম অবহেলা? সংশ্লিস্টদের রহস্যজনক নীরবতায় মানচিত্রের এই অংশটি আজ প্রায় পরিত্যক্ত দ্বীপে পরিণত হয়েছে। জনমনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভের দাবানল।
নাগরিক সেবা পাওয়া মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, কোনো করুণা বা অনুদান নয়। একটি জনপদকে এভাবে দুই দশক ধরে পঁচা-মরা পানির ভাগাড়ে ফেলে রাখা দায়িত্বশীলদের কেবল ব্যর্থতাই নয়, বরং চরম অমানবিকতা। এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
উন্নয়ন যখন দোরগোড়ায়, তখন এই জনপদকে অবহেলার অন্ধকারে ফেলে রাখার দায় কার? এই এলাকার মানুষ কি স্বাভাবিক জীবনের দেখা পাবে? নাকি উন্নয়নের ফাইলের স্তূপে বন্দি থাকবে? আর কোনো আশ্বাস নয়, দীর্ঘস্থায়ী ড্রেনেজ সমাধান চান তারা। এমনই প্রশ্ন রেখে দীর্ঘ দিনের এই ‘নরক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহবান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।