পলাশে গণপিটুনির প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা: তিনজন গ্রেপ্তার
নরসিংদীর পলাশে ব্যাটারি চোর সন্দেহে হিমেল (২২) নামে একজনকে গণপিটুনির প্রতিবাদ জানানোর জেরে রাকিব ও সাকিব নামের দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো: আব্দুল হান্নান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ভাগদী এলাকার পাভেল, খবির ও উসমান।
সোমবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভাগদী এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানান পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন। নিহত দুই ভাই সাকিব মিয়া (২০) ও রাকিব মিয়া (২৬) পলাশ উপজেলার করতেতৈল গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সোমবার সকালে ব্যাটারি চোর সন্দেহে হিমেল নামের এক যুবককে পিটুনি শুরু করে ভাগদী এলাকার কিছু লোক। হিমেল দেখতে অনেকটা চাচা নাজিমউদ্দিনের চেহেরার মত হওয়ায় চাচা পিটুনির শিকার হচ্ছে এমন খবরে সেখানে যায় দুই ভাই রাকিব ও সাকিব। পরে হিমেলকে গণপিটুনি দেয়ার দৃশ্য দেখে তাকে মারপিট না করে আইনের হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ করে তারা। এসময় অনুরোধ না শোনায় মারপিটে জড়িত পাভেলসহ অন্যান্যদের উদ্দেশ্যে রাকিব গালি দিলে তর্কবিতর্ক হয়। খবর পেয়ে ঘোড়াশাল ফাঁড়ি পুলিশ মারপিটের শিকার হিমেলকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
পরে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় রাকিব ও সাকিবসহ অন্যান্যদের। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও তর্কবিতর্ক হওয়ার এক পর্যায়ে পাভেলসহ অন্যদের গণপিটুনিতে আহত হয় করতেতৈল গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের দুই ছেলে রাকিব ও সাকিব। পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাকিবকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং রাকিবকে ঢামেকে নেয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতদের পিতা আশরাফ উদ্দিন বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে আমার দুই ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেদের প্রাণভিক্ষা চাইলেও তারা শোনেনি। আমার এক ছেলে একটু পানি চাইলে একজন মুখে প্রস্রাব করে দেয়। উল্টো আমাকে ও আমার স্ত্রীকেও মারধর করা হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুদ্বীপ কুমার সাহা বলেন, একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো: আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে গণপিটুনিতে বাঁধা দেয়ার জেরেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এছাড়া অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই মরদেহ সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।