রাজনীতি ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন সামসুদ্দিন আহমেদ এছাক এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নরসিংদীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জনপদ নির্মাণের অন্যতম রূপকার, সাবেক সংসদ সদস্য ও শিল্পমনা ব্যক্তিত্ব সামসুদ্দিন আহমেদ এছাক-এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নরসিংদীর আরশীনগর বটমূলে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও মরমী সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত হয়।
১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করা এই জননেতা তৃণমূলের শ্রমিক রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হয়েছিলেন। তিনি নরসিংদী-১ আসন থেকে টানা চারবার (১৯৯১-২০০৫) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালে প্রতিরোধ যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এছাড়া নরসিংদী পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি আধুনিক নগর গড়ায় বিশেষ অবদান রাখেন।
সামসুদ্দিন আহমেদ এছাক কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদই ছিলেন না, একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সাংবাদিক ছিলেন তিনি। ‘চিরদিন তোমাকে ভালোবেসে যাব’ গানটির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সম্পাদিত সাময়িকী ‘আরশীতে মুখ’ সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আমৃত্যু নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে একই সুতোয় গেঁথেছিলেন।
আজ এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নরসিংদী-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, এছাক সাহেব ছিলেন একজন বিরল মেধার অধিকারী মানুষ। তিনি রাজনীতিকে জনসেবা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র জনগণের কল্যাণেই কাজ করেননি, শহীদ জিয়ার আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন তিনি। এই আদর্শিক সংহতি তাকে আমৃত্যু বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত রেখেছিল।
অনুষ্ঠানে নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গঠনের আহ্বান জানান তারা। ব্যক্তিগত সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে মৃত্যুর দুই দশক পরেও সামসুদ্দিন আহমেদ এছাক নরসিংদীবাসীর কাছে এক চিরস্মরণীয় নেতা হয়ে আছেন।

















