ফেসবুকে প্রবাসীদের অবমাননা: তোপের মুখে মনোহরদীর বিএনপি নেতা সৈকত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমিন সৈকত। তার ওই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও গণঅসন্তোষের দাবানল জ্বলে ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রুহুল আমিন সৈকত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মান ও অবদানের অবমূল্যায়ন করে বেশ কিছু কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করেন। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত প্রবাসীদের নিয়ে এমন অসংবেদনশীল ও অপমানজনক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেন ও প্রবাসী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের চরম ক্ষোভ ও বাংলাদেশ দূতাবাসে অভিযোগ
রুহুল আমিন সৈকতের বক্তব্যের জেরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। প্রবাসীদের অভিযোগ, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের বাংলাদেশ এম্বাসি (দূতাবাস) ও হাই কমিশনে সৈকতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এম্বাসির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের নিকট স্মারকলিপি ও মামলার তোড়জোড় চলছে।
প্রবাসী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সম্মান ও প্রবাসীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাদের এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দলীয় অবস্থান
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়ন ও সাগরদী গ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মিশ্র ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের স্বজনরা জানান, একজন স্থানীয় রাজনীতিকের কাছ থেকে প্রবাসীদের নিয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন। স্থানীয় অনেকেই তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রুহুল আমিন সৈকতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে তোপের মুখে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র নানা গুঞ্জন ও চর্চা চলছে।
প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট দাবি, প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত রেমিট্যান্স দিয়ে দেশকে সচল রাখা প্রবাসীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। দ্রুতই এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।









