ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক শাকিলকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার: অবিলম্বে মুক্তির দাবি জর্নালিস্ট টর্চার প্রিবেনশন সেলের

স্টাফ রিপোর্টার

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’। গত ৮ অক্টোবর সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করতে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিশানা করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর আইন ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিককে এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বিবৃতি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একটি পূর্ববর্তী মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদীর মনোহরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তবে সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁকে মনোহরদী থানার ওই মামলার পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি সম্পূর্ণ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সংগঠনটির দাবি— মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশার নানা অনিয়ম ও দায়িত্ব পালন নিয়ে সাংবাদিক শাকিল সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এতে তাঁদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ তৈরি হয়। সেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত আক্রোশের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাংবাদিক শাকিলকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত সি.ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) মূলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা দুটির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মনোহরদী সি.আর মামলা নং-৮১৭/২০২৪: দণ্ডবিধির ৪৪৭ (অনধিকার প্রবেশ), ৩৮৫ (তোলাবাজি বা চাদাবাজি), ৩৮০ (চুরি) ও ৫০৬(২) (হুমকি প্রদান) ধারা।

  • মনোহরদী থানা মামলা নং-৫(১)২০২৬: সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারা।

এদিকে, কোনো পেশাদার সাংবাদিককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক ও পেশাজীবী সংগঠন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ‘সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদ বাংলাদেশ’ এবং ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’ পৃথক বক্তব্যে এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত ও চরম উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে অবিহিত করেছে। সংগঠনগুলো অবিলম্বে কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে।

 সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিহিংসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে; পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক শাকিলকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার: অবিলম্বে মুক্তির দাবি জর্নালিস্ট টর্চার প্রিবেনশন সেলের

আপডেট সময় ১০:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’। গত ৮ অক্টোবর সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করতে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিশানা করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর আইন ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিককে এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বিবৃতি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একটি পূর্ববর্তী মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদীর মনোহরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তবে সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁকে মনোহরদী থানার ওই মামলার পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি সম্পূর্ণ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সংগঠনটির দাবি— মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশার নানা অনিয়ম ও দায়িত্ব পালন নিয়ে সাংবাদিক শাকিল সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এতে তাঁদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ তৈরি হয়। সেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত আক্রোশের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাংবাদিক শাকিলকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত সি.ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) মূলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা দুটির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মনোহরদী সি.আর মামলা নং-৮১৭/২০২৪: দণ্ডবিধির ৪৪৭ (অনধিকার প্রবেশ), ৩৮৫ (তোলাবাজি বা চাদাবাজি), ৩৮০ (চুরি) ও ৫০৬(২) (হুমকি প্রদান) ধারা।

  • মনোহরদী থানা মামলা নং-৫(১)২০২৬: সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারা।

এদিকে, কোনো পেশাদার সাংবাদিককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক ও পেশাজীবী সংগঠন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ‘সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদ বাংলাদেশ’ এবং ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’ পৃথক বক্তব্যে এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত ও চরম উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে অবিহিত করেছে। সংগঠনগুলো অবিলম্বে কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে।

 সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিহিংসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে; পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।