ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ ফকির নিহত:

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বর্বরোচিত হামলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’-র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি নিয়মিত পোস্ট ও সংবাদ প্রকাশ করতেন।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উত্তরাইল বাজারের একটি দোকানে স্থানীয় অন্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আলিফ। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ছুটিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য: ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহত আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিনটি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

পূর্বেও নির্মম হামলার শিকার হন আলিফ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আলিফ। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে তাঁর ওপর এক দফা হামলা চালানো হয়। সে সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। ঐ ঘটনায় তাঁর এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গুলিতেই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে গেল।

শোক ও বিচারের দাবি: সাংবাদিক আলিফ ফকিরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতকদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ ফকির নিহত:

আপডেট সময় ১০:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বর্বরোচিত হামলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’-র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি নিয়মিত পোস্ট ও সংবাদ প্রকাশ করতেন।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উত্তরাইল বাজারের একটি দোকানে স্থানীয় অন্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আলিফ। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ছুটিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য: ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহত আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিনটি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

পূর্বেও নির্মম হামলার শিকার হন আলিফ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আলিফ। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে তাঁর ওপর এক দফা হামলা চালানো হয়। সে সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। ঐ ঘটনায় তাঁর এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গুলিতেই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে গেল।

শোক ও বিচারের দাবি: সাংবাদিক আলিফ ফকিরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতকদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।