নরসিংদীতে ৩ শতাধিক অদম্য মেধাবীকে ‘পামসান’-এর সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান
মেধার কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এই সত্যকে আবারও প্রমাণ করলো শিল্প-সংস্কৃতির চারণভূমি নরসিংদীর একঝাঁক তরুণ। দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে স্থান করে নেওয়া নরসিংদীর ৩ শতাধিক মেধাবীকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছে ‘পাবলিক ইউনিভার্সিটি এন্ড মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব নরসিংদী’ (পামসান)। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই মেধাবীদের তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
১ জুন সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নরসিংদী মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়। হাতে লাল-সবুজের স্বপ্ন আর চোখে বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া নরসিংদী জেলার প্রায় ৩ শতাধিক অদম্য মেধাবীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান ও সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা নয়, বরং জেলার তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার অনুপ্রেরণা তৈরির একটি ‘পজিটিভ চেইন রি-অ্যাকশন’। এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেমন উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হবে, তেমনি কমবে ঝরে পড়ার হার।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি ডা. সাকিব হাসান বেলাল জানান, “আমরা শুধু সংবর্ধনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এই মেধাবীদের গ্লোবাল লিডার হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ও ক্যারিয়ারমুখী কর্মশালা অব্যাহত থাকবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা যেন কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে বিশ্বমানের সমস্যা সমাধানকারী হতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নরসিংদী এখন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম হাবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
পামসান’র সভাপতি ডা. সাকিব হাসান বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলা সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া, গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূইয়া, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি’র ডিরেক্টর নাসির আহমেদ রিগান, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, ‘পামসান’র সাবেক সভাপতি কাজী আশিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী, পামসানের সাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফ প্রমূখ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীবৃন্দসহ সুশীল সমাজের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
নরসিংদীর এই তরুণদের মেধার মশাল এখন শুধু দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে টেকসই আগামীর নেতৃত্ব দিতে তারা প্রস্তুত। পামসানের এই উদ্যোগ নরসিংদী জেলার শিক্ষার গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও সুধীজনের।









