ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত: অভিযোগ কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব দায়ী

নিজস্ব সংবাদ :

রাস্তায় ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না রাখার খামখেয়ালিতে ঝরে গেল আরও একটি তাজা প্রাণ। উপজেলার ডুমরাকান্দা-দাড়িয়াকান্দি সড়কের একটি নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেলসহ পড়ে গিয়ে আব্দুস সাত্তার (৫৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  ২জুন সন্ধ্যার অন্ধকারে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুস সাত্তার। ডুমরাকান্দা-দাড়িয়াকান্দি সড়কের একটি অংশে কালভার্ট নির্মাণের জন্য রাস্তা কেটে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দূর থেকে বোঝার মতো কোনো পর্যাপ্ত আলো বা নির্দেশক ছিল না। সন্ধ্যার অন্ধকারে মোটরসাইকেলটি কালভার্টের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি গভীর গর্তে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

দুর্ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সেই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন কালভার্ট এলাকায় কোনো ধরনের পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

“রাস্তা কেটে কাজ করা হচ্ছে অথচ দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। কোনো লাল কাপড়ের নিশানা, সতর্কতামূলক স্টিকার বা ফেস্টুন কিছুই ব্যবহার করা হয়নি। এই চরম অবহেলার কারণেই আজ একজন মানুষকে প্রাণ হারাতে হলো।” — ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

সচেতন মহলের দাবি: চাই কার্যকর ব্যবস্থা

যেকোনো সড়কে উন্নয়নমূলক কাজের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তায় যখনই কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়, তখন কাটা রাস্তার বেশ কিছু দূর আগে থেকেই চালকদের সচেতন করার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  • সতর্কতামূলক স্টিকার ও ফেস্টুন: দূর থেকে যেন চালকের চোখে পড়ে, এমন প্রতিফলক (Reflective) স্টিকার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা।

  • লাইটিং বা লাল বাতি: রাতের অন্ধকারে বা সন্ধ্যার আবছা আলোতে দূর থেকে গর্ত বা ব্যারিকেড চেনার জন্য পর্যাপ্ত লাইটিং বা লাল বাতির ব্যবস্থা রাখা।

  • বিকল্প রাস্তার নির্দেশনা: রাস্তা বন্ধ থাকলে চালকদের সুবিধার্থে বিকল্প পথের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো।

একটি সামান্য অবহেলা কীভাবে একটি পরিবারকে চিরতরে নিঃস্ব করে দিতে পারে, এই দুর্ঘটনা তার আরও একটি নির্মম উদাহরণ। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০১:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২২ বার পড়া হয়েছে

নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত: অভিযোগ কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব দায়ী

আপডেট সময় ০১:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

রাস্তায় ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না রাখার খামখেয়ালিতে ঝরে গেল আরও একটি তাজা প্রাণ। উপজেলার ডুমরাকান্দা-দাড়িয়াকান্দি সড়কের একটি নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেলসহ পড়ে গিয়ে আব্দুস সাত্তার (৫৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  ২জুন সন্ধ্যার অন্ধকারে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুস সাত্তার। ডুমরাকান্দা-দাড়িয়াকান্দি সড়কের একটি অংশে কালভার্ট নির্মাণের জন্য রাস্তা কেটে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দূর থেকে বোঝার মতো কোনো পর্যাপ্ত আলো বা নির্দেশক ছিল না। সন্ধ্যার অন্ধকারে মোটরসাইকেলটি কালভার্টের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি গভীর গর্তে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

দুর্ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সেই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন কালভার্ট এলাকায় কোনো ধরনের পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

“রাস্তা কেটে কাজ করা হচ্ছে অথচ দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। কোনো লাল কাপড়ের নিশানা, সতর্কতামূলক স্টিকার বা ফেস্টুন কিছুই ব্যবহার করা হয়নি। এই চরম অবহেলার কারণেই আজ একজন মানুষকে প্রাণ হারাতে হলো।” — ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

সচেতন মহলের দাবি: চাই কার্যকর ব্যবস্থা

যেকোনো সড়কে উন্নয়নমূলক কাজের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তায় যখনই কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়, তখন কাটা রাস্তার বেশ কিছু দূর আগে থেকেই চালকদের সচেতন করার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  • সতর্কতামূলক স্টিকার ও ফেস্টুন: দূর থেকে যেন চালকের চোখে পড়ে, এমন প্রতিফলক (Reflective) স্টিকার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা।

  • লাইটিং বা লাল বাতি: রাতের অন্ধকারে বা সন্ধ্যার আবছা আলোতে দূর থেকে গর্ত বা ব্যারিকেড চেনার জন্য পর্যাপ্ত লাইটিং বা লাল বাতির ব্যবস্থা রাখা।

  • বিকল্প রাস্তার নির্দেশনা: রাস্তা বন্ধ থাকলে চালকদের সুবিধার্থে বিকল্প পথের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো।

একটি সামান্য অবহেলা কীভাবে একটি পরিবারকে চিরতরে নিঃস্ব করে দিতে পারে, এই দুর্ঘটনা তার আরও একটি নির্মম উদাহরণ। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।